বিজ্ঞান ব্লগ

এডোবির যত সফটওয়্যার ও তাদের ব্যবহার-পর্বঃ১

এডোবি কে চিনেন না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। যারা ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করেছেন তারা কখনো না কখনো এডোবির সফটওয়্যার গুলোর সংস্পর্শে এসেছেন,আরো সরাসরি ভাবে বলতে গেলে আমরা যে ফটোশপের নাম শুনি,কিংবা প্রায় অনেকের মোবাইলে যে পিডিএফ রিডার টি রয়েছে এই এপ গুলো এডোবির। ১৯৮২ সালে যাত্রা শুরু করা এডোবি কোম্পানি এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি এপ্লিকেশন তৈরি করেছে তার সঠিক হিসেব পাওয়া মুশকিল। তবে আনুমানিক ৫০ টি এ্যাপ মানুষের নিত্যদিনের কাজে লাগছে। সবগুলো নিয়ে আমার আজকের এই ব্লগটি নিয়ে লেখা সম্ভব নয়, সেজন্যে আমি এই ব্লগে ২ পর্বে এডোবির সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০ টি  এপ বা সফটওয়্যার নিয়ে কথা বলব,তুলে ধরব তাদের ব্যবহার।

 

১। এডোবি ফটোশপঃ

“এই ছবি টা ফটোশপ করা”,”আরে এসব তো ফটোশপে করসে”, আমরা প্রতিদিনই এমন কথা শুনে থাকি বা বলে থাকি। এই ‘ফটোশপ’ শব্দটি এখন আমাদের দৈনন্দিন শব্দে পরিণত হয়েছে,যুক্ত হয়েছে অক্সফোর্ড ডিকশনারিতেও। এই শব্দটি মূলত এসেছে এডোবি ফটোশপ সফটওয়্যার এর নাম থেকেই। যেকোন ছবিকেই কাট ছাট করে,রং পরিবর্তন করে ,নতুন ছবিতে সংযোজন বিয়োজন করে এই ফটোশপ দিয়ে করা যায় আমূল পরিবর্তন। ফটোশপে রয়েছে বিস্তৃত  কাজের সুযোগ যার ফিচার প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাছে যার দরুন ফটোশপ মূলত ব্যক্তিগত কাজের চেয়েও বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজে গ্রাফিক্স ডিজাইনার কর্তৃক বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

 

২। এডোবি ইলাস্ট্রেটরঃ

গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে এডোবি ইলাস্ট্রেটর সবার উপরে থাকবে। এই এপ্লিকেশনের টুলগুলো মোটামোটি এডোবি ফটোশপের সাথে সামাঞ্জস্য থাকলেও এডোবি ইলাস্ট্রেটর মূলত অংকনের জন্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন লোগো ডিজাইনিং,ভেক্টর আর্ট,বিজনেস কার্ড ডিজাইনিং ইত্যাদি। ফটোশপের সাথে ইলাস্ট্রেটরের একটি মৌলিক পার্থক্য হলো ফটোশপ ছবির পিক্সেল হিসেব করে কাজ করলেও ইলাস্ট্রেটর সেই একই কাজ করে প্রোগ্রামিং এর কিছু গাণিতিক সমীকরণ দিয়ে তাই এখানে ছবির কোয়ালিটি কে ইচ্ছামতো পরিবর্তন,পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করা যায়।

 

৩। এডোবি লাইটরুমঃ

মূলত ফটোগ্রাফারদের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয় এডোবি লাইটরুম। লাইটরুমের সব ফিচার আসলে এডোবি ফটোশপেই পাওয়া যায় তবে ফটোশপের ফিচারস অনেক বেশি হওয়ায় তা সবার জন্যে সব সময় ব্যবহার করা দূর্বোধ্য লাগতে পারে। তাই একজন ফটোগ্রাফারের কাজের প্রেক্ষিতে ছবি তে বিভিন্ন ইফেক্ট ও রিটাচের ফিচারগুলো আলাদা করে নিয়ে যথাসম্ভব ইউজার ফ্রেন্ডলি একটি এপ্লিকেশন হচ্ছে এই লাইটরুম। যার দরুন এখন সাধারণ ছবি এডিট এর জন্যে আর ফটোশপে যাওয়া লাগে না এবং খুব সহজেই লাইটরুমেই এডিট করে ফেলা যায়।

 

৪। এডোবি আফটার ইফেক্টসঃ

ভিডিও তে ভিজুয়াল ইফেক্টস,মোশন গ্রাফিক্স,কম্পোস্টিং করাই হলো এই এপ্লিকেশনের কাজ। ভিএফএক্স ও এনিমেশন এর কাজ ও করা যায় এখানে।পুরোদন্তুর সিনেমা বানানোর জন্যে যথেষ্ঠ না হলেও বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের জন্যে, ব্যাক্তিগত কাজের জন্যে ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ছোটখাটো ভিডিওর জন্যে এই এপ্লিকেশনটি খুবই কার্যকরী ও জনপ্রিয়।

এগুলো পড়তে ভুলবেন না !!!

মধু ,মৌমাছি এবং গণিতের মধ্যে রহস্যময় সংযোগ

গল্পে গল্পে মমি নিয়ে কিছু অদ্ভুত আবিষ্কার (২য় পর্ব)

গল্পে গল্পে মমি নিয়ে কিছু অদ্ভুত আবিষ্কার (১ম পর্ব)

৫। এডোবি প্রিমিয়ার প্রোঃ

এই গ্রহের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার হচ্ছে এডোবি প্রিমিয়ার প্রো। মূলত টাইমলাইন সিস্টেম ও রিয়েল টাইম এডিটিং ফিচারের জন্যে এই সফটওয়্যার দিয়ে বিভিন্ন সময় গ্রহণ করা বিভিন্ন ক্লিপ কে জোড়া লাগানো এবং ভিডিও তে সাউন্ড এফেক্ট,থ্রিডি এলিমেন্টস সহ বিভিন্ন ভিজুয়ালাইজেশন যোগ করা যায়। অনেক বড় বড় প্রজেক্টের কাজে আগে থেকেই এই এপ্লিকেশনটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ইউটিউব কালচারের ফুলে উঠা ও অনেক ইউটিউবার গড়ে উঠার কারনে এই সফটওয়্যারের জনপ্রিয়তা বর্তমান সময়ে আরো তুঙ্গে উঠে গেছে।

(চলবে……)

Exit mobile version