in

“দ্য নোভা ইফেক্ট”:একটি ছোট কাজ থেকে যখন বিশাল প্রতিক্রিয়া

পৃথিবীতে প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে কোনো না কোনো মুহূর্তে তার সাথে ঘটে যাওয়া কোনো কাহিনী থেকেই দুর্ভাগ্যব/দুর্দশার সম্মুখীন হতে হয়েছে; সেই দুর্দশার পরিণতি অনেকের জীবনে যেমন সুখ বয়ে এনেছে তেমনি এনেছে সাফল্য। কিন্তু কেন যেন আমরা আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া খারাপ ঘটনা বা আমরা যেসব বাজে পরিস্থিতির সম্মুখীন হই তা ভুলতে পারিনা।

আমরা মনে মনে ভাবি এরকম ঘটনা না ঘটলেও পারত এবং সেই ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ ঠিক করে ফেলি বা ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকি যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং এরকম ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্পূর্ণ অনুচিত। এই বিষয়টি দ্য নোভা ইফেক্ট’ (The Nova Effect) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।কিন্তু আপনি কি ‘দ্য নোভা ইফেক্ট’ টার্মটির সাথে পরিচিত? 

এটি একটি কুকুরের গল্পের উপর ভিত্তি করে তৈরি যেখানে একটি ঘটনার ফলাফল অপ্রত্যাশিত ভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

গল্পটি- একদিন সকালবেলা এরিক নামক একজন ব্যক্তি তার কুকুর নোভার সাথে হাটতে বের হয়, তারা হাঁটতে হাঁটতে পার্কে যায়। হঠাৎ করেই নোভার সামনে দিয়ে একটি খরগোশ ঝোপ থেকে বের হয়ে দৌড় দেয়। যার ফলে অন্যান্য কুকুরের মতই নোভার মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং সে খরগোশটির পিছু নেয়। এরিক অন্য ধ্যানে মগ্ন থাকায় সে নোভার ঘাড়ে বাধা দড়িটি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

এদিকে নোভা খরগোশের সাথে দৌঁড়ে উঠতে পারেনি এবং জঙ্গলের ভিতর রাস্তা হারিয়ে ফেলে। ফলশ্রুতিতে এরিক নোভার পিছনে যাওয়ার পরও তার সন্ধান পায় নি এবং শত চেষ্টার পরও সে তার প্রিয় কুকুরকে আর খুঁজে পায় নি। এরিক ভাবতে থাকে খরগোশটি যদি নোভার সামনে না আসত তাহলে হয়তো এমনটি ঘটত না।

ধীরে ধীরে এক সপ্তাহ কেটে যায়। এরিক সব আশা প্রত্যাশা হারিয়ে ফেলে এবং ডিপ্রেশনে চলে যায়।কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন ভেনেসা নামক একজন মেয়ে এরিকের বাসার ডোরবেল বাজায়। দরজা খুলে এরিক নোভাকে ভেনেসার কোলে দেখতে পায়। অতঃপর এরিক বিস্মিত হয়ে যায় এবং নোভাকে পেয়ে তার যেন খুশির অন্ত ছিল না।

পরবর্তীতে ভেনেসার সাথে এরিকের পরিচয় হওয়ার পরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয় এবং ধীরে ধীরে সে সম্পর্ক আরও গভীর হয় যা এক পর্যায়ে ভালোবাসার সম্পর্কে পরিণত হয়। সেই মুহূর্তে এরিক নিজেকে অনেক সুখী মনে করেছিল এবং সে চিন্তা করেছিল খরগোশটি যদি ঝোপ থেকে বের না হতো তাহলে সে হয়তো ভেনেসাকে তার সঙ্গী হিসেবে পেত না।

তবে কোনো এক সন্ধ্যায় ভেনেসা তার মা-বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য এরিককে আমন্ত্রণ জানায়। তাই এরিক স্যুট পরে ভেনেসার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। যাওয়ার পথে দুর্ভাগ্যবশত রাস্তার মোড়ে এরিকের গাড়ির সাথে একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে যার ফলে এরিক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় এবং অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকে।পরবর্তীতে এরিকের যখন জ্ঞান আসে তখন সে নিজেকে হাসপাতালের বেডে দেখতে পায় এবং কল্পনা করতে থাকে তার দুর্দশার কারণ। সেই মুহূর্তে এরিকের মনে হয় খরগোশটি যদি নোভার সামনে না আসত তাহলে তার সাথে ভেনেসার দেখাও হতো না এবং তাকে এরূপ দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হতো না। 

এমতাবস্থায় ডাক্তার আসে এবং এরিককে বলে,”আপনার জন্য একটি সুসংবাদ ও একটি দুঃসংবাদ আছে”; কিন্তু আপনি কোনটি আগে শুনতে চান?প্রত্যুত্তরে এরিক দুঃসংবাদটি আগে বাছাই করে। ডাক্তার বলেন দুঃসংবাদটি হল “আপনার মাথার সিটি স্ক্যান করে আমরা টিউমার শনাক্ত করতে পেরেছি”,তবে সুসংবাদটি হল,”এই ধরনের টিউমার তখনই শনাক্ত করা যায় যখন এটি সক্রিয় হয় যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শনাক্ত করতে অনেক দেরি হয়ে যায়”।

ডাক্তার আরও বলেন, “আপনার ক্ষেত্রে এটি এখনও ম্যালিগন্যান্ট নয়, যার মানে আপনি এর থেকে মুক্তি পেতে পারেন”।ডাক্তার এরিকের হাত ধরে বলেন, “এরিক এই দুর্ঘটনাটি আপনার জীবন বাঁচিয়েছে!!”

এরিক উপলব্ধি করতে পারে, খরগোশটি যদি না আসতো তাহলে সে তার এই টিউমার সম্পর্কে অবগত হতে পারত না যা তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে এবং বুঝতে পারে কিভাবে কিছু ছোট ছোট ঘটনা একজন ব্যক্তির জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।

এখন কথা হচ্ছে, ‘দ্য নোভা ইফেক্ট’ (The Nova Effect) কি?

এতক্ষণ ধরে আপনি যে গল্পটি পড়লেন তা সম্পূর্ণই কাল্পনিক। কিন্তু গল্পটি প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তা হলো, জীবনে কোনো কিছু ঘটে যাওয়ার উপর আপনি কখনোই ভবিষ্যৎদ্বানী করতে পারবেন না কারণ সেই ঘটনাটি আপনার জীবনে ভালো এবং ক্ষতিকর উভয় প্রভাব ফেলতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, মনে করুন আপনার এক বন্ধুর উপর ভরসা করে আপনি কোনো কিছু না পড়ে পরীক্ষার হলে পরীক্ষা দিতে গেলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আপনার বন্ধুটি আপনাকে কোন কিছু দেখায় নি। সেই মুহূর্তে আপনার যেমন অসহায় লাগছিল তেমনি আপনার বন্ধুর উপর ক্ষোভের যেন অন্ত ছিল না। তাই আপনি মনে মনে অনেক উদ্যমী হলেন এবং ভাবলেন আপনাকে অনেক পড়াশোনা করতে হবে। অতঃপর এই কথার জের ধরে আপনি এত ভাল পড়াশুনা করলেন যে পরবর্তী পরীক্ষায় আপনি ফার্স্ট হয়ে গেলেন!!! 

এগুলো পড়তে ভুলবেন না  !!

কম্পিউটারের সবচেয়ে মারাত্মক ভাইরাস!! (পর্ব-১)

চিনি: কেন তা মিষ্টি ?

কি বুঝলেন তো ব্যাপারটা? আপনার বন্ধু যদি এমন না করত তাহলে হয়তো পরের পরীক্ষার জন্য আপনি নিজে পড়াশোনা না করে তার আশায় বসে থাকতেন। আপনি তখন কোনোমতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেও হয়তো ফার্স্ট হতে পারতেন না।

সুতরাং গল্পটির মূল সারসংক্ষেপ হলো, “If you change nothing, nothing changes. You will get what you tolerate”. অর্থাৎ আপনি যা যা সহ্য সহ্য করেছেন তার যদি কোন পরিবর্তন না আনেন তাহলে আপনার জীবন সেভাবেই চলতে থাকবে এবং আপনি খুব সহজে জীবনে সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন না। জীবনে প্রতিনিয়ত সুযোগ আসে আবার চলেও যায়। কিন্তু সেই সুযোগকে কিভাবে কাজে লাগাবেন সেটা আপনার উপর নির্ভর করে।তাই জীবনের প্রতিটি ঘটনার পেছনে কারণ থাকে এবং সেই ঘটনা আপনার জীবনে কোনো না কোনোভাবে হয়তো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আপনি কি ভাবছেন?

ব্লগটি লিখেছেন Piupooh

Assalamu Alaikum and Greetings to everyone. This is Priya who is optimistic , dreaming about her future, want to worthy for herself and only for herself. Keep your support for me in this journey. Thank you.

কম্পিউটারের সবচেয়ে মারাত্মক ভাইরাস!! (পর্ব-১)

ফসিল নিয়ে নানান কথা:অজানা বয়স বের করার রহস্য