সায়েন্স বী কেন?

দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নবাজ ছাত্রছাত্রীদের মাঝে একুৃশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের বিজ্ঞান,প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগগুলো আরো বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে প্রায় দুই বছর যাবৎ সায়েন্স বী কাজ করে যাচ্ছে।

সায়েন্স বী কী? সায়েন্স বী মুলত বিজ্ঞানের পোকাদের গ্রুপ। বিজ্ঞান নামটিই ছাত্রছাত্রীদের কাছে ভীতিকর শব্দ, প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই ভীতির জন্য ফেইল করে বসে, এছাড়াও বিজ্ঞানের সব সুযোগ সুবিধাই ঢাকাকেন্দ্রিক, ঢাকার বাইরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পর্যাপ্ত অবকাঠামো উন্নয়নের অভাব, প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জনের অভাব,দক্ষ শিক্ষকের অপ্রতুলতা সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত।

কিন্তু দেশকে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন ছাড়া কোন উপায় নাই। একদিকে ছাত্রছাত্রীদের একাডেমিক বিজ্ঞানভীতি দূর এবং বিভিন্ন সমস্যা যেমন সমাধান প্রয়োজন তেমনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ খবরাখবর ও তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে কারণ আগামীর বাংলাদেশ হবে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত বাংলাদেশ, সেখানে কোনভাবেই একটি বিরাট জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে উন্নতির কথা চিন্তা করা অবান্তর। সেই প্রয়োজন থেকেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বিজ্ঞানের পোকাদের কমিউনিটি।

সায়েন্স বী এর উদ্যোগে গড়ে তুলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম ওয়েবসাইট ভিত্তিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক সর্বশেষ সংবাদ মাধ্যম ডেইলি সায়েন্স যেখানে প্রতিদিনই থাকছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ রিসার্চ ও আবিস্কার সহ বিভিন্ন সচেতনতামুলক খবরাখবর। ওয়েবসাইট ও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টিশীলতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিনের ব্লগ, প্রশ্নোত্তর ভান্ডার, অনলাইন পরীক্ষা,দৈনিক কুইজ, চলমান বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার এবং আরোও অনেক পদক্ষেপের মাধ্যমে একুৃশ শতকের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সবার সরাসরি ও স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পরিপূর্ণ শিক্ষামূলক প্লাটফর্ম গড়ে তুলেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মবিন সিকদারের উদ্যোগে, কয়েকজন উদ্যমী বিজ্ঞানপ্রেমীর হাত ধরে ২০১৮ সালের  এপ্রিলে সায়েন্স বী যাত্রা শুরু করে।নানা প্রতিকুলতা থাকা সত্ত্বেও সায়েন্স স্ব উদ্যোগে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে ওয়েবসাইট তৈরি থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ ওরা নিজেরাই করে থাকে, এজন্য বাইরের কারোও সাহায্য নিতে হয় না, স্বেচ্ছাসেবকদের এমন নিরলস পরিশ্রম সত্যিই দেশকে আশার আলো দেখায়। খুব কম সময়ের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে সায়েন্স বী।প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ছাত্রছাত্রী সায়েন্স বি ওয়েব প্লাটফর্মে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ভিত্তিক করছে।

ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্কুল,কলেজ,ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত কিছু উদ্যমী ছাত্রছাত্রী তাদের বর্তমানে আবিষ্কৃত বিজ্ঞানের সর্বশেষ বিষয় নিয়ে লেখনী মাধ্যমে বাংলা ভাষায় খুব সহজে বিজ্ঞানকে তুলে ধরছে।এছাড়াও ফেসবুক, ইউটিউব সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১ লক্ষেরও অধিক কৌতুহলী শিক্ষার্থী নতুন পৃথিবী জানতে পারছে এবং তাদের জানার খোরাক মেটাতে পারছে আনন্দের সাথে।

সায়েন্স বী বিশ্বাস করে যদি সমাজের প্রতিটি স্তরে, ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে যদি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে এবং স্বনির্ভর দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সায়েন্স বী সৃষ্টিশীলতায় সৃজনশীল বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি মনষ্ক একটি সমাজ বিনির্মানের স্বপ্ন দেখছে। এই শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তার স্বপ্ন সায়েন্স বী এর কার্যক্রম ইন্টারনেটের বাইরেও ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে যাক যাতে করে তারা তাদের স্বপ্নপূরন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যেতে পারে।